২৭ হাজার টাকার একটি শাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পেলেও আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ ও অসন্তোষ উগরে দিয়েছেন তিনি। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হেনস্তা করার সরাসরি অভিযোগ তোলেন এই অভিনেত্রী।

জামিন পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তানজিন তিশা বলেন, ‘‘২৭ হাজার টাকার একটা শাড়ি নাকি আত্মসাৎ করেছি। আমার ১৫ বছরের একটা ক্যারিয়ার। এটা কারও কাছে কাম্য নয়, একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসব। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই আদালতে এসেছি। তবে মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণা, এমন কিছুই করিনি।’’

তানজিন তিশা আরও বলেন, ‘‘একটা কথা বলতে চাই, মামলার বাদী একজন নারী। তিনি নিজের স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সঙ্গে এটা (মামলা) করেছেন। অনেক ধরনের হুমকি দিয়েছেন। আগামীতে সবকিছু তুলে ধরব। আমার নামে যে মামলা করেছে, তাকে চিনি না।’’

এর আগে শাড়ি নিয়ে করা ‘প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের’ মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিশা। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক এ তথ্য জানান।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র অ্যাডমিন আমিনুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তানজিন তিশা। পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় আদালতে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করা হয়।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেন। সম্প্রতি তদন্ত শেষে পুলিশ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। সেই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।